খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় : কুষ্টিয়ার শিক্ষা উন্নয়নের আলোকবর্তিকা
পরিচিতি
কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় অবস্থিত খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা এই বিদ্যালয় স্থানীয় জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম। খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯০০ সালে খোকসার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের ০৭ মে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। বহু প্রজন্ম ধরে বিদ্যালয়টি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও চরিত্র গঠনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
📜 প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০০ সালে খোকসার স্থানীয় ব্যক্তিদের দ্বারা বিদ্যালয়েতে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের নামকরণে ‘পাইলট’ শব্দটি যুক্ত হয় পরীক্ষামূলকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার নতুন ধারা চালু করার জন্য। বিদ্যালয় প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন বাবু পূর্ণ চন্দ্র সেন। বিদ্যালয়টি ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ হাই স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি নিবন্ধনের ব্যাপারে তৎকালীন বিরাহিমপুর মৌজার (শিলাইদহ) জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুপারিশ ও উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯১৮ সালের ২৪ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রথম পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন কুমারখালী মহকুমার প্রশাসক রায় সাহেব ভূপেন্দ্র মুখার্জী। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক শাখা পৃথক হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়টি শুধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়ে যায়। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।

🎓 শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। এখানে প্রায় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে থাকে।
- পাঠ্যক্রম: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অনুমোদিত।
- শিক্ষক সংখ্যা: দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা।
- ভবন: দুই তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ।
- সুবিধা: লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, ক্রীড়া মাঠ।
- সহশিক্ষা কার্যক্রম: ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, বয় স্কাউট, গার্লস গাইড ইত্যাদি।
🌟 সাফল্য ও অর্জন
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায়— ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
🚹 উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী
- আবু বকর সিদ্দিকী – আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ এর বিচারক
- মুহাম্মাদ লুৎফর রহমান – বাংলাদেশী অধ্যাপক, রসায়নবিদ ও গবেষক
- হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী – বাংলাদেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি
👩🏫 সমাজ ও নারীর শিক্ষায় অবদান
খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নারী শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় মেয়েরা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সামাজিক উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিদ্যালয়ের অবদান অনন্য।

🌍 ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
- আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম চালু করা
- ডিজিটাল ল্যাব ও ই-লাইব্রেরি স্থাপন
- আরও উন্নত ক্রীড়া মাঠ তৈরি
- শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান
এর মাধ্যমে বিদ্যালয়টি আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
✨ খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়
খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়— এটি একটি ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সমাজ পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বিদ্যালয় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও এটি শিক্ষার গৌরবময় পতাকা বহন করবে
বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা। আগামী দিনে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে বিদ্যালয়টিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে।

খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় | খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়

